বিল্টু তার বিখ্যাত গাড়িটা নিয়ে ছুটছে, যেটাকে ওর ফজলু চাচা টাইম মেশিন বলেন। ওটাতে একটা খুব ভালো স্পিড মিটার লাগিয়ে দিয়েছেন ওর চাচা। তারপর ওকে বলেছিলেন, ‘এটা নিয়ে বের হও, বিল্টু। রাস্তায় গিয়ে কোনো একটা গাড়ির স্পিড মাপবে
।গাড়ির স্পিড মেপে কী হবে চাচা?’ বিল্টু জানতে চেয়েছিল। চাচা ভেঙে কিছু বলেননি। শুধু বলেছিলেন, রাস্তায় কোনো গাড়ির গতি মেপে আসার পর নাকি বিল্টুকে তিনি থিওরি অব রিলেটিভিটি বা বিশেষ আপেক্ষিকতা শেখাবেন। ভারী আমোদ হয়েছিল বিল্টুর।
রিলেটিভিটির নাম শুনেছে, আলবার্ট আইনস্টাইনের থিওরি। কিন্ত ওই থিওরির কিস্যুটি বোঝে না। সত্যিই যদি চাচা ওকে রিলেটিভিটি শেখান৷ তাহলে ওর ক্লাসের ফার্স্ট বয়কে দেখিয়ে দিতে পারবে, বিল্টুও কম যায় না।
আরও পড়ুন: আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব ক্যালসিয়াম
চাচা গাড়িতে স্পিড মিটার লাগিয়ে দেখিয়ে দিলেন, কীভাবে কতভাবে একটা গাড়ির স্পিডমিটার মাপতে হবে।
বাজার পেরিয়ে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে গাড়িটা। এখানে রাস্তাটা একদম সরলরেখার মতো। চারপাশে ধুধু মাঠ। কালো পিসরাস্তাটা যেন দিগন্তে গিয়ে মিশেছে আকাশের সঙ্গে।
বিল্টু অপেক্ষা করে।
আরও পড়ুন: বোরের ব্যারোমিটার কাণ্ড
বিল্টু বাইকটার উদ্দেশে লেজার রশ্মি ছুড়ে দেয়। স্পিড মিটারে চোখ রেখে দেখে বাইকটা ঘণ্টায় মাত্র ৩০ কিলোমিটার বেগে আসছে।
এবার বিল্টু নিজের গাড়িটা চালিয়ে দেয় ১০ কিলোমাটার গতিতে, মোটর বাইকটা যেদিক থেকে আসছে, সেদিকে। এবার স্পিডমিটারের ডিসপ্লেতে চোখ রেখে মোটর বাইকটার গতি বেড়ে গেছে, ঘন্টায় এখন ৪০ কিলোমিটার গতিতে চলছে। চাচা বলে দিয়েছিলেন, এরকম পরিস্থিতে স্পিডমিটারে নীল বোতামটা চাপতে৷ বিল্টু তা-ই করে। সঙ্গে সঙ্গে ডিসপ্লেটা তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায়। একটা দিকে দেখাচ্ছে বাইকটার অরজিনাল গতি ৩০ মিটার। মাঝখানের ডিসপ্লেতে দেখাচ্ছে অবজারভারে পরিমাপ করা গতি ৪০ কিলোমাটার। আর শেষ ভাগে দেখাচ্ছে অবজারভারের স্পিড ১০ কিলোমিটার৷ অর্থাৎ এটা বিল্টুর গাড়ির গতি।
বিল্টু নিজের গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। তত ওর মনে হয় বাইকের গতি বাড়ছে। ও গাড়ির গতি পর্যায়ক্রমে ২০, ৩০, ৪০ মিটার পর্যন্ত তুলে ফেলে। ওর কাছে মনে হয় বাইকটা আরও জোরে, পর্যায়ক্রমে ৫০, ৬০ ও ৭০ কিলোমিটার বেগে আসছে। প্রতিবার ও নীল বাটনটা চেপে নিশ্চিত হয়, বাইকের গতি আসলে বাড়েনি৷ ওর নিজের গাড়ির গতি বেড়েছে বলেই বাইকের গতি বাড়ছে মনে হচ্ছে৷ এমনটা যে হবে, ফজলু চাচা আগেই বলে দিয়েছিলেন।
‘গাড়ির স্পিড মেপে কী হবে চাচা?’ বিল্টু জানতে চেয়েছিল। চাচা ভেঙে কিছু বলেননি। শুধু বলেছিলেন, রাস্তায় কোনো গাড়ির গতি মেপে আসার পর নাকি বিল্টুকে তিনি থিওরি অব রিলেটিভিটি বা বিশেষ আপেক্ষিকতা শেখাবেন। ভারী আমোদ হয়েছিল বিল্টুর।
আরও পড়ুন: আ ব্রিফ হিস্ট্রি অব ক্যালসিয়াম
চাচা গাড়িতে স্পিড মিটার লাগিয়ে দেখিয়ে দিলেন, কীভাবে কতভাবে একটা গাড়ির স্পিডমিটার মাপতে হবে।
বাজার পেরিয়ে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে গাড়িটা। এখানে রাস্তাটা একদম সরলরেখার মতো। চারপাশে ধুধু মাঠ। কালো পিসরাস্তাটা যেন দিগন্তে গিয়ে মিশেছে আকাশের সঙ্গে।
বিল্টু অপেক্ষা করে।
আরও পড়ুন: বোরের ব্যারোমিটার কাণ্ড
বিল্টু বাইকটার উদ্দেশে লেজার রশ্মি ছুড়ে দেয়। স্পিড মিটারে চোখ রেখে দেখে বাইকটা ঘণ্টায় মাত্র ৩০ কিলোমিটার বেগে আসছে।
এবার বিল্টু নিজের গাড়িটা চালিয়ে দেয় ১০ কিলোমাটার গতিতে, মোটর বাইকটা যেদিক থেকে আসছে, সেদিকে। এবার স্পিডমিটারের ডিসপ্লেতে চোখ রেখে মোটর বাইকটার গতি বেড়ে গেছে, ঘন্টায় এখন ৪০ কিলোমিটার গতিতে চলছে। চাচা বলে দিয়েছিলেন, এরকম পরিস্থিতে স্পিডমিটারে নীল বোতামটা চাপতে৷ বিল্টু তা-ই করে। সঙ্গে সঙ্গে ডিসপ্লেটা তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায়। একটা দিকে দেখাচ্ছে বাইকটার অরজিনাল গতি ৩০ মিটার। মাঝখানের ডিসপ্লেতে দেখাচ্ছে অবজারভারে পরিমাপ করা গতি ৪০ কিলোমাটার। আর শেষ ভাগে দেখাচ্ছে অবজারভারের স্পিড ১০ কিলোমিটার৷ অর্থাৎ এটা বিল্টুর গাড়ির গতি।
বিল্টু নিজের গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। তত ওর মনে হয় বাইকের গতি বাড়ছে। ও গাড়ির গতি পর্যায়ক্রমে ২০, ৩০, ৪০ মিটার পর্যন্ত তুলে ফেলে। ওর কাছে মনে হয় বাইকটা আরও জোরে, পর্যায়ক্রমে ৫০, ৬০ ও ৭০ কিলোমিটার বেগে আসছে। প্রতিবার ও নীল বাটনটা চেপে নিশ্চিত হয়, বাইকের গতি আসলে বাড়েনি৷ ওর নিজের গাড়ির গতি বেড়েছে বলেই বাইকের গতি বাড়ছে মনে হচ্ছে৷ এমনটা যে হবে, ফজলু চাচা আগেই বলে দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ডাবের ভেতর পানি আসে কোথা থেকে?
কিছুক্ষণের মধ্যেই বাইকটা ওর গাড়ি অতিক্রম করে বিপরীত দিকে চলে যায়। বিল্টুর গাড়ির পেছন দিকেও লেজার রশ্মি ছোড়া আর ক্যাপচার করার সেন্সর ছিল। তাই সহজেই পেছন দিকে ছুটতে থাকা বাইকের গতি মাপতে পারছিল৷ বিল্টু দেখে পেছন দিকে ছুটে গেলেও ডিসপ্লেতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অর্থাৎ বাইকটা ৭০ কিলোমিটার বেগেই পেছন দিকে ছুটে যাচ্ছে।
বিল্টু এবার নিজের গাড়ির গতি কমিয়ে দিতে থাকে। ডিসপ্লেতে দেখে ধীরে ধীরে কমছে বাইকের গতি। ও নিজের গাড়ি সম্পুর্ণ থামিয়ে দেয়। বাইকের গতিও ৩০ কিলোমিটারে এসে স্থির হয়। অর্থাৎ পুরো এই সমায়টাতে বাইকের গতি একটুও কমেনি-বাড়েনি।
বিল্টু এবার দ্রুত নিজের গাড়ির মুখ ঘুরিয়ে বাইকটাকে ধাওয়া করে। দেখে বাইকের গতি এবার কমে গেছে। গাড়ির স্পিড ধীরে ধীরে বাড়াতে থাকে বিল্টু। বাইকের গতি তত কমতে থাকে। এক সময় দেখে বাইক স্পিডমিটারে বাইকের গতি ০ দেখাচ্ছে। কিন্তু দূরে বাইকের দিকে তাকিয়ে ওর মনে হয় বাইকটা চলছে, যদিও গতি বোঝা যাচ্ছে না।
বিল্টু তখন স্পিডমিটারের নীল বোতামটা চেপে দেখে বাইকের অরজিনাল গতি ৩০ কিলোমিটার, অবজারভারের মাপা বাইকের আপেক্ষিক গতি ০ কিলোমিটার আর অবজারভার অর্থাৎ বিল্টুর গাড়ির গতি ৩০ কিলোমিটার।
এবার বিল্টু নিজের গাড়ির গতি বাড়াতে থাকে। পর্যায় ক্রমে ১০ কিলোমিটার করে৷ এতক্ষণ গতি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাইকের গতি কমছিল, কিন্তু যখনই ওর গাড়ির গতি ৩০ কিলোমিটারের পরে আবার বাড়তে শুরু করে, তখনই বাইকের গতি বাড়তে থাকে, তবে সেটা সামনের দিকে নয়, পেছন দিকে।
বিল্টুর গাড়ির গতি যখন ৪০ কিলোমিটার বাইকটা তখন ১০ কিলোমিটার বেগে পিছিয়ে আসতে শুরু করে। যখন বিল্টুর গাড়ির গতি পর্যায়ক্রমে ৫০, ৬০ ও ৭০ কিলোমিটার, তখন বাইকের পিছিয়ে আসার গতি পর্যায়ক্রমে ২০, ৩০ ও ৪০ মিটার।
বিল্টু স্পিড মিটারের নীল বাটন চেপে নিশ্চিত হয়, পুরোটা সময়ে বাইকের অরজিনাল গতি ৩০ কিলোমিটারই ছিল, বাড়েনি একটুও, শুধু বাইকের আপেক্ষিক গতি বাড়া-কমা হয়েছে।
ফজলু চাচা পরে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। অরজিনাল গতি বলে ডিসপ্লেতে যেটা দেখিয়েছে, ওটাকে অরজিনাল গতি বলা ঠিক নয়। শুধু বিল্টুর বোঝার জন্যই চাচা ওটাকে ওভাবে সাজিয়েন। আপেক্ষিক গতিই আসল গতি।
চাচা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, একটা স্থির বস্তু যখন একটা গতিশীল বস্তুর তুলনা করা হয়, তখন স্থির বস্তু নিজে স্থির, গতিশীল বস্তুটা স্থির বস্তু গতিশীল হিসেবে দেখবে। কিন্তু স্থির গতিশীল বস্ত বা মানুষ কিন্তু নিজেকে গতিশীল হিসেবে দেখে না। বরং সে নিজেকে স্থির মনে করে। চারপাশের স্থির বস্তুগুলোকে বরং সে গতিশীল দেখবে। যেমন, বাসে চড়ে কোথাও যাওয়ার সময় বাইরে দিকে তাকালেই ব্যাপারটা বোঝা যায়৷ বাইরের গাছপালে, বিদ্যুতের খুঁটি, ঘর বাড়িগুলো মনে হয় দ্রুত যাত্রীর দিকে এগিয়ে আসছে।
চাচা বলেন, মহাবিশ্বে স্থিরতা বলে কিছু নেই। ঘর, বাড়ি গাছপালা, ঘুমিয়ে থাকা মানুষ কেউই নাকি স্থির নয়। কারণ পৃথিবী এসব বুকে নিয়েই সূর্যের চারপাশে ঘুরছে, আর সূর্য ঘুরছে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির চারপাশে থাকা বিশাল এক ব্ল্যাকহোল সিগনাস এ১-কে কেন্দ্র করে। সেই ব্ল্যাকহোল আবার নিজ অক্ষের ওপর ঘুরছে। গ্যালাক্সিগুলোও স্থির নয়। পুরো মহাবিশ্ব সবসময় প্রসারিত হচ্ছে, ফলে গ্যালাক্সিগুলো একে ওপরের কাছে থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই পরম স্থিতিশীল কোনো বস্তু পাওয়া যাবে না। আপেক্ষিকভাবে বস্তু স্থির হতে পারে। তাই সকল গতিই আপেক্ষিক (আলোর গতি ছাড়া)। আপেক্ষিক গতিই তাই অরজিনাল গতি
